০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নানক, তাপসসহ ২৮ আসামির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

  • আপডেট: ০১:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • 2

জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শেখ ফজলে নূর তাপস

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে ধানমন্ডিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ শহীদ হয়। সেদিন (২০২৪ সালের ১৮ জুলাই) ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীরা এমনভাবে গুলি করছিল যে পুলিশ সদস্যরাও এভাবে গুলি করে না। ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীদের কাছে এত গুলি কীভাবে আসল?’

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল সিদ্দিক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান–নুর–ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ হৃদয়, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইমান ওয়াসেক, ধানমন্ডি থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদ হোসেন সোহাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আক্রমণকারী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আহম্মেদ, অস্ত্রধারী ‘হেলমেট বাহিনীর সদস্য’ মো. ইউনুছ এবং সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের সহযোগী মো. রুবেল হোসেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনকারী ফারহান ফাইয়াজ, মো. মাহিন মিয়া ও মো. রনিকে হত্যা এবং পরদিন ১৯ জুলাই আল শাহরিয়ার হোসেন, মো. রাজু আহমেদ, মাহামুদুর রহমান সৈকত, মো. ইসমাইল, মো. জসিম উদ্দিন ও জোবায়েদ হোসেন ইমনকে হত্যার ঘটনায় এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধার ঘটনায় সংসদে বিবৃতি দাবি জামায়াত এমপির

নানক, তাপসসহ ২৮ আসামির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

আপডেট: ০১:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে ধানমন্ডিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ শহীদ হয়। সেদিন (২০২৪ সালের ১৮ জুলাই) ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীরা এমনভাবে গুলি করছিল যে পুলিশ সদস্যরাও এভাবে গুলি করে না। ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীদের কাছে এত গুলি কীভাবে আসল?’

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল সিদ্দিক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান–নুর–ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ হৃদয়, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইমান ওয়াসেক, ধানমন্ডি থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদ হোসেন সোহাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আক্রমণকারী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আহম্মেদ, অস্ত্রধারী ‘হেলমেট বাহিনীর সদস্য’ মো. ইউনুছ এবং সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের সহযোগী মো. রুবেল হোসেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনকারী ফারহান ফাইয়াজ, মো. মাহিন মিয়া ও মো. রনিকে হত্যা এবং পরদিন ১৯ জুলাই আল শাহরিয়ার হোসেন, মো. রাজু আহমেদ, মাহামুদুর রহমান সৈকত, মো. ইসমাইল, মো. জসিম উদ্দিন ও জোবায়েদ হোসেন ইমনকে হত্যার ঘটনায় এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।