বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাপ্পী রহমান। কানাডা হোস্ট সিটির সমর্থক বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম তদারককারীর পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজনে এমন দায়িত্ব পাওয়া বাপ্পী রহমানের ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, তিনি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ফিফার ভলেন্টিয়ার প্রোগ্রামে অনলাইনে আবেদন করেন। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে গত ১ জুন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
ফিফা ভলেন্টিয়ার প্রোগ্রাম কানাডা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টরন্টো হোস্ট সিটির জন্য মাত্র প্রায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে এই প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, প্রতি ৮০ জনে মাত্র একজন নির্বাচিত হয়েছেন।
বাপ্পী রহমান বলেন, আমার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আবেদন, সাক্ষাৎকার, শিফট অ্যাসাইনমেন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ নানা ধাপ পার হতে হয়েছে। এটি ছিল দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া।
তিনি আরও জানান, শৈশব থেকেই তিনি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত। স্কাউট আন্দোলন, রেড ক্রিসেন্ট এবং রোটারি ক্লাবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেসি ও রোনালদোর মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের কাছ থেকে মাঠের খেলা দেখার সুযোগ নিয়েও তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার বাড়ি সিলেট শহরের মেন্দিবাগ এলাকায়।
এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবল ও ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

















