১৯ বছর পর বাবার খোঁজে ইন্দোনেশিয়ান তরুণী জয়নাব বাংলাদেশী তথা সিলেট বাসির সাহায্য চেয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে হারিয়ে যাওয়া বাবার সন্ধানে হৃদয়স্পর্শী আবেদন জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার পুরওকার্তা এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী তরুণী জায়নাব আক্তার জাবা (জবা)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর আবেগঘন পোস্টটি ইতোমধ্যে অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
জয়নাব জানান, তাঁর জন্ম ২০০৭ সালে সৌদি আরবের মদিনা শহরে। সে সময় তাঁর মা, যিনি ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক, এবং নানী সেখানে কর্মরত ছিলেন। মদিনাতেই তাঁর মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সিলেটের বাসিন্দা বলে পরিচিত জয়নাল আবিদিন এর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের সংসারে জন্ম নেন জয়নাব।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যখন মাত্র দুই থেকে তিন বছরের শিশু, তখন পারিবারিক কারণে মা তাঁকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যান। এরপরও কয়েক বছর তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। কিন্তু এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের বাড়ি পুড়ে গেলে বাবার ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষিত ডায়েরিটিও আগুনে নষ্ট হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই বাবার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে প্রায় ১৭–১৮ বছর ধরে বাবার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় গভীর আবেগ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। জয়নাব জানান, তিনি তাঁর বাবার পুরো বাংলাদেশি নাম, আত্মীয়-স্বজন কিংবা নির্দিষ্ট ঠিকানা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাঁর জানা একমাত্র তথ্য হলো, বাবার নাম জয়নাল আবিদিন এবং তিনি বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন, যদি কেউ তাঁর বাবাকে চিনে থাকেন বা তাঁর সম্পর্কে সামান্য কোনো তথ্যও জানেন, তাহলে যেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর বিশ্বাস, একজন মানুষের একটি তথ্য কিংবা একটি শেয়ারই হয়তো বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা বাবা-মেয়ের পুনর্মিলনের পথ তৈরি করতে পারে।
এই আবেগঘন আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে সম্ভাব্য তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করছেন জয়নাব।
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ যদি পোস্টটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেন এবং কেউ জয়নাল আবিদিন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেন, তবে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের অবসান ঘটতে পারে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন জয়নাব। তাঁর আশা, মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় একদিন হয়তো তিনি তাঁর হারিয়ে যাওয়া বাবাকে আবার খুঁজে পাবেন।














