১২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শান্ত ক্ষমা চাইলেন সমর্থকদের কাছে

  • আপডেট: ০২:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪
  • 106

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

পরিসংখ্যান বলছে, এবারই সবচেয়ে সফল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পার করেছে বাংলাদেশ। সাত ম্যাচে জয় তিনটিতে। উদ্বোধনী আসরের পর এবারই প্রথম দল খেলল সুপার এইটে। কিন্তু তাতেও তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যাচ্ছে না টুর্নামেন্টজুড়ে নড়বড়ে ব্যাটিং করায়। হতাশায় মোড়ানো বিশ্বকাপে নিজেদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের কাছে তাই ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

সুপর এইটে প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের সামনে ছিল শেষ চারে ওঠার দারুণ সুযোগ। সেন্ট ভিনসেন্টে মঙ্গলবার বোলারদের নৈপুণ্যে আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে আটকে দেয় তারা। পরে ১২.১ ওভারে এই রান তাড়া করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানকে টপকে শান্তরাই পেত সেমিফাইনালের টিকেট।

কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সমীকরণ মেলানো যায়নি। এমনকি মামুলি লক্ষ্যে সান্ত্বনার জয়টাও পায়নি তারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে হেরেছে ৮ রানে।

সাত ম্যাচ মিলিয়ে একশর বেশি রান করতে পেরেছেন কেবল ৪ ব্যাটসম্যান। ১২৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ১৫৩ রান নিয়ে সবার ওপরে হৃদয়। বাকি স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট ১১০ও ছুঁতে পারেনি। লিটন, শান্ত, তানজিদ হাসান, মাহমুদউল্লাহরা তো ব্যাট করেন একশরও নিচে স্ট্রাইক রেটে।

স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে দলীয় স্কোরে। সাত ম্যাচে মাত্র একটিতে দেড়শ ছুঁতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেটিও তুলনামূলক দুর্বল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১০ রানও করতে পারেনি শান্তর দল।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকেট পেয়েছে মূলত বোলারদের কাঁধে চড়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সামগ্রিক পর্যালোচনায় নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকবার ‘সরি’ বললেন ও ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।

বিশ্বকাপের পুরো যাত্রা সম্পর্কে বলব, আমরা দল হিসেবে বাংলাদেশের সব সমর্থককে হতাশ করেছি। যারা আমাদের খেলা অনুসরণ করেন, সবসময় অনুসরণ করেন তাদের ‘লেট ডাউন’ করেছি। তো আমি দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি ।”

“আমরা ব্যাটিং গ্রুপ হিসেবে দেশের মানুষকে ভালো কিছু দিতে পারিনি। এটার জন্য আমরা সরি। সামনের দিকে আমাদের এটাই চেষ্টা থাকবে, কীভাবে এখান থেকে বের হয়ে আসতে পারি।”

ব্যর্থতার টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অর্জন বলতে গেছে রিশাদ হোসেন। প্রথমবার আইসিসির পুরো টুর্নামেন্টে খেললেন বাংলাদেশের কোনো লেগ স্পিনার। এর সুফল হিসেবে ওভারপ্রতি ৭.৭৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। রিশাদের প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়ে আরও একবার ‘সরি’ বলেন শান্ত।

“ইতিবাচক দিক অবশ্যই বোলাররা… তারা সবাই খুবই ভালো বোলিং করেছে। রিশাদ এরকম একটা টুর্নামেন্টে এসে সবগুলা ম্যাচে ভালো বোলিং করেছে। তো বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল।”

“তবে ব্যাটিং দিক থেকে আমরা সমর্থকদের হতাশ করেছি। দেশের মানুষকে আমরা বলতে গেলে কষ্ট দিয়েছি। তবে এটাও আমি বলতে চাই, চেষ্টার কমতি ছিল না। শতভাগ দিয়ে সবাই চেষ্টা করেছে। সবাই নিজের কাজে সৎ ছিল। তবে আমরা দিন শেষে আমরা পারিনি। তাই এটার জন্য দলের পক্ষ থেকে সরি।”

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না: ড. ইউনূস

শান্ত ক্ষমা চাইলেন সমর্থকদের কাছে

আপডেট: ০২:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

পরিসংখ্যান বলছে, এবারই সবচেয়ে সফল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পার করেছে বাংলাদেশ। সাত ম্যাচে জয় তিনটিতে। উদ্বোধনী আসরের পর এবারই প্রথম দল খেলল সুপার এইটে। কিন্তু তাতেও তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যাচ্ছে না টুর্নামেন্টজুড়ে নড়বড়ে ব্যাটিং করায়। হতাশায় মোড়ানো বিশ্বকাপে নিজেদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের কাছে তাই ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

সুপর এইটে প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের সামনে ছিল শেষ চারে ওঠার দারুণ সুযোগ। সেন্ট ভিনসেন্টে মঙ্গলবার বোলারদের নৈপুণ্যে আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে আটকে দেয় তারা। পরে ১২.১ ওভারে এই রান তাড়া করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানকে টপকে শান্তরাই পেত সেমিফাইনালের টিকেট।

কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সমীকরণ মেলানো যায়নি। এমনকি মামুলি লক্ষ্যে সান্ত্বনার জয়টাও পায়নি তারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে হেরেছে ৮ রানে।

সাত ম্যাচ মিলিয়ে একশর বেশি রান করতে পেরেছেন কেবল ৪ ব্যাটসম্যান। ১২৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ১৫৩ রান নিয়ে সবার ওপরে হৃদয়। বাকি স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট ১১০ও ছুঁতে পারেনি। লিটন, শান্ত, তানজিদ হাসান, মাহমুদউল্লাহরা তো ব্যাট করেন একশরও নিচে স্ট্রাইক রেটে।

স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে দলীয় স্কোরে। সাত ম্যাচে মাত্র একটিতে দেড়শ ছুঁতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেটিও তুলনামূলক দুর্বল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১০ রানও করতে পারেনি শান্তর দল।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকেট পেয়েছে মূলত বোলারদের কাঁধে চড়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সামগ্রিক পর্যালোচনায় নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকবার ‘সরি’ বললেন ও ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।

বিশ্বকাপের পুরো যাত্রা সম্পর্কে বলব, আমরা দল হিসেবে বাংলাদেশের সব সমর্থককে হতাশ করেছি। যারা আমাদের খেলা অনুসরণ করেন, সবসময় অনুসরণ করেন তাদের ‘লেট ডাউন’ করেছি। তো আমি দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি ।”

“আমরা ব্যাটিং গ্রুপ হিসেবে দেশের মানুষকে ভালো কিছু দিতে পারিনি। এটার জন্য আমরা সরি। সামনের দিকে আমাদের এটাই চেষ্টা থাকবে, কীভাবে এখান থেকে বের হয়ে আসতে পারি।”

ব্যর্থতার টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অর্জন বলতে গেছে রিশাদ হোসেন। প্রথমবার আইসিসির পুরো টুর্নামেন্টে খেললেন বাংলাদেশের কোনো লেগ স্পিনার। এর সুফল হিসেবে ওভারপ্রতি ৭.৭৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। রিশাদের প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়ে আরও একবার ‘সরি’ বলেন শান্ত।

“ইতিবাচক দিক অবশ্যই বোলাররা… তারা সবাই খুবই ভালো বোলিং করেছে। রিশাদ এরকম একটা টুর্নামেন্টে এসে সবগুলা ম্যাচে ভালো বোলিং করেছে। তো বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল।”

“তবে ব্যাটিং দিক থেকে আমরা সমর্থকদের হতাশ করেছি। দেশের মানুষকে আমরা বলতে গেলে কষ্ট দিয়েছি। তবে এটাও আমি বলতে চাই, চেষ্টার কমতি ছিল না। শতভাগ দিয়ে সবাই চেষ্টা করেছে। সবাই নিজের কাজে সৎ ছিল। তবে আমরা দিন শেষে আমরা পারিনি। তাই এটার জন্য দলের পক্ষ থেকে সরি।”